Blogs

Crossing the millennium – my story – 01

যখন আমার জীবন নিয়ে লিখতে বসলাম তখন প্রথম যে ভাবনাটা মাথায় এলো তা হল লিখাটার structure কেমন হবে। যদিও সুনীলের বা khuswant singh এর আত্মজীবনী পড়েই প্রথম আমার নিজেকে নিয়ে লিখবার বাসনা তারপরেও ওনাদের মতন করে লিখাটা আমার শোভা পায় না। আমি ওনাদের মতো বর্ণিল জীবন যাপন করিনি, আর ওনাদের যশ বা খ্যাতির তুলনায় আমি নিতান্তই একজন নগণ্য মানুষ। কাজেই ঘটা করে গল্প আকারে নিজের জীবন নিয়ে লিখবো সেটা সম্ভবত ঠিক হবে না। কিন্তু কোন একটা structure এ তো যেতে হবে। আমি ছোট বেলায় অনেকগুলি স্কুল এ পড়েছি কারণ আমি অনেক ছোট বড় শহর এ ছিলাম। ঢাকায় প্রথম আসা হয় কলেজ এ পড়বার সময়। স্কুল জীবনে যে সকল জায়গায় ছিলাম সেগুলি কে একেকটা পর্ব ধরে লিখলে হয়তোবা খানিকটা সিস্টেম মাফিক হবে। কাজেই শুরুটা সেভাবেই করছি। আমার বাংলা লিখার গতি খুবই কম কারন কম্পিউটার এ বাংলা টাইপ কখনই ঠিক মতো শেখা হয়নি। কাজেই আমার ১৫-২০ পাতার এই লিখা শেষ করতে গিয়ে হয়ত ২ বছরও লেগে যেতে পারে। যাই হোক মূল লিখাতে ফেরত যাই।

আমার জীবনের শুরুর কথাটা আর সকলের মতো আমারও মনে নেই। বাবা মা এর কাছে শুনেছি কিছু কথা যার থেকে বোঝা যায় যে যতদিন কিছু বুঝতে শিখিনি ততদিন আমার সময়টা কেটেছে বরিশাল আর পাবনা শহরে। বড় হবার পরে একবার পাবনা যাওয়া হলেও বরিশাল কখনই যাওয়া হয়নি। বরিশাল বোধকরি পৃথিবীর একমাত্র স্থান যেখানটায় যাবার ইচ্ছে আমার গত ৩০ বছর ধরে আছে। হয়ত কোন দিন যাব। ১৯৮১ সালের শেষের দিকে আমরা জলঢাকা নামে একটা উপজেলা শহরে থাকতে শুরু করলাম। আমার প্রথম সৃতি বলতে ওই শহরে কাটানো দিনগুলি। অনেক ছোট ছিলাম কাজেই স্মৃতিগুলি ভাঙ্গা ভাঙ্গা। আমরা একটা অনেক বড় বাসায় থাকতাম কিন্তু বাসাটা অনেক পুরনো ছিল। আমার প্রথম গৃহ শিক্ষক এর কাছে লেখাপড়ার শুরুটাও সেখানে। হাচাক বাতির সাথে প্রথম পরিচয় ও সেই শহরে। বিদ্যুৎ থাকার থেকে না থাকাটাই রেওয়াজ ছিল। আমরা একটা কলোনিতে থাকতাম যেটার চারপাশে কোন দেয়াল ছিল না। আমরা যাবার কিছুদিন পরে দেয়াল তৈরির কাজ শুরু হল। এক সময় দেয়ালটা হয়েও গেল। এখন হয়ত বেড়াতে গিয়ে দেখব কলোনিটা অনেক ছোট কিন্তু তখন সেটাকেই বিশাল এক জগত মনে হত।

আমি যে স্কুলটাতে যেতাম সেটার নাম ছিল অনির্বাণ বিদ্যাতীর্থ। রাশভারী নাম কিন্তু স্কুলটা একদম নতুন ছিল। কলোনিতে দেয়াল হবার আগে যাওয়াটা সহজ ছিল। বাসার পেছন দিকে এক কিলোমিটার সোজা হেঁটে গেলেই স্কুল। কিন্তু দেয়াল হয়ে যাবার পরে দেয়াল টপকানোর একটা ব্যাপার ছিল। আমাদের বাসায় আমাদের গ্রামের একজন ভাইয়া থাকত। যাবার সময় উনি আমাকে দেয়ালের উপরে উঠিয়ে দিতেন এর পরে আমি নিজেই দেয়াল বেয়ে নেমে যেতাম। দেয়াল এর ঠিক পেছনে একটা কুঁড়েঘর মতো ছিল। সেখানে এক জিলাপি প্রস্তুতকারক যুবক তার স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। স্কুল থেকে ফিরবার পথে উনি আমাকে দেয়াল এ তুলে দিতেন। এভাবেই স্কুল এ যাওয়া আসা চলছিল। স্কুল এ আমার কিছু ভাল বন্ধু হয়েছিল। এদের মাঝে দুজনের নাম মনে আছে, শিমুল আর পীযুষ। পীযুষ এর বাবা ছিলেন স্বর্ণকার। ওদের বাসাতে আমি প্রথমবারের মতো তুলশী গাছ দেখি। মুসলমানদের সব সময়ই হিন্দুদের নিয়ে বানিয়ে বানিয়ে কথা বলবার অভ্যাস ছিল। আমার এখনও মনে আছে কে যেন আমায় বলেছিল যে কুকুর গুলি খুঁজে খুঁজে তুলসী গাছের উপরে প্রস্রাব করে। কোথা থেকে কেমন করে এই সব বাজে কথা লোকে বলতো সেটা বোঝবার ক্ষমতা ছিল না। কাজেই কথাগুলি অল্প অল্প বিশ্বাস ও করতাম।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s